Skip to main content

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় বারোটি খাবার

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় বারোটি (12) খাবার

প্রায় দেড় হাজার বছর আগে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পছন্দের ১২টি খাবার ও তাঁর গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো। এসব খাবার নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহার করতেন এবং দেড় হাজার বছর পর আজকের বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিভিন্ন খাবারের গুণাগুণ ও উপাদান অত্যন্ত যথাযথ ও নির্ভুল, নিরঙ্কুশভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাবারের মধ্যে রয়েছে বার্লি, খেজুর, ডুমুর, আঙ্গুর, মধু, তরমুজ, দুধ, মাশরুম, অলিভ অয়েল, ডালিম-বেদানা, ভিনেগার ও পানি। খাবারের গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো

 এক: খেজুর: খেজুরের গুণাগুণ ও খাদ্যশক্তি অপরিসীম। খেজুরের খাদ্যশক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীর সতেজ রাখে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, যে বাড়ীতে খেজুর নেই সে বাড়ীতে কোন খাবার নেই। এমনকি সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আল্লাহর নবী। 
                     
  দুই: বার্লি (জাউ): এটা জ্বরের জন্য এবং পেটের পীড়ায় উপকারী। 


                    

তিন: ফিগস বা ডুমুর: ডুমুর অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভেষজগুণ সম্পন্ন যাদের পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী খাবার। 
                                      

চার: আঙ্গুর: নবীজী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুর খেতে অত্যন্ত ভাল বাসতেন। আঙ্গুরের পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। এই খাবারের উচ্চ খাদ্য শক্তির কারণে এটা থেকে আমরা তাত্ক্ষণিক এনার্জি পাই এবং এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আঙ্গুর কিডনির জন্য উপকারী এবং বাওয়েল মুভমেন্টে সহায়ক। যাদের আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম আছে তারা খেতে পারেন।                                                              

পাঁচ: মধু- মধুর নানা পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণ রয়েছে। মধুকে বলা হয় খাবার, পানীয় ও ওষুধের সেরা। হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে মধু পান ডায়রিয়ার জন্য ভালো। খাবারে অরুচি, পাকস্থলীর সমস্যা, হেয়ার কন্ডিশনার ও মাউথ ওয়াশ হিসেবে উপকারী।   
                               

ছয়: তরমুজ- সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নবীজী 
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
 তরমুজ আহারকে গুরুত্ব দিতেন। যেসব গর্ভবতী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।                                                                

সাত: দুধ- দুধের খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণ ও ভেষজগুণ বর্ণনাতীত। দেড় হাজার বছর আগে বিজ্ঞান যখন অন্ধকারে তখন নবীজী 
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ সম্পর্কে বলেন, দুধ হার্টের জন্য ভালো। দুধ পানে মেরুদন্ড সবল হয়, মস্তিষ্ক সুগঠিত হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। আজকের বিজ্ঞানীরাও দুধকে আদর্শ খাবার হিসেবে দেখেন এবং এর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অস্থিগঠনে সহায়ক। 

আট: মাশরুম- আজ বিশ্বজুড়ে মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং মাশরুম নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। অথচ দেড় হাজার বছর আগে নবীজী 
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাশরুম চোখের জন্য ভালো এবং এটা বার্থ কন্ট্রোলে সহায়ক এবং মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা নার্ভ শক্ত করে এবং শরীর প্যারালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে। 

নয়: অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েলের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ বহুমুখী। তবে আজ মানুষের ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষা ও বয়স ধরে রাখার জন্য যারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন তাদের দেড় হাজার বছর আগে নবীজী 
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অলিভ অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য ভালো এবং বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক বা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে। এছাড়া অলিভ অয়েল পাকস্থলীর প্রদাহ নিরাময়ে সহায়ক।                                                        


দশ: ডালিম-বেদানা: বেদানার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণের পাশাপাশি এটার ধর্মীয় একটি দিক আছে এবং নবীজী 
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, এটা আহারকারীদের শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে বিরত রাখে। 
                                          

এগার: ভিনেগার- ভিনেগারের ভেষজ গুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। নবীজী 
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অথচ আজকের এই মডার্ন ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্যের যুগে বিশ্বের বড় বড় নামি-দামি রেস্টুরেন্ট বিশেষ করে এলিট ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টে অভিল অয়েল ও ভিনেগার এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়। 
                                                  

বার: খাবার পানি: পানির অপর নাম জীবন। পানির ভেষজগুণ অপরিসীম। দেড় হাজার বছর আগে নবীজী 
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানিকে পৃথিবীর সেরা ড্রিংক বা পানীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন।
                                      


                               সংকলন ও © কপিরাইট ঃ গোলাম পাঞ্জেতান
                                                www.amariman.blogspot.com


Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশের গর্ব নতুন আজহারী আব্দুল মোস্তফা রাহিম

বিশ্বের  সবচেয়ে  প্রাচীন  ইসলামিক  বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে  গ্রেজুয়েশন  শেষ  করে  দেশে  ফিরে  ইসলাম  প্রচার  করছেন  আল্লামা  বাকী  বিল্লাহ  রহঃ  এর  বড়  সাহেবজাদা  আব্দুল  মোস্তফা  রাহিম   আল আজহারী। জন্ম :  ১৫  সেপ্টেমবর   ১৯৯১ ইং। বাবা :  আল্লামা  বাকী  বিল্লাহ  রহঃ । পড়ালেখা :  জামেয়া  গাউছিয়া  তৈয়্যবিয়া  তাহেরিয়া   মাদ্রাসা , জামেয়া  আহমাদিয়া  সুন্নিয়া , কাদেরিয়া  তৈয়্যবিয়া  আলিয়া কামিল   মাদ্রাসা ,  আল আজহার  বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বীনি খেদমত :  বাংলাদেশের   প্রায়   সব  যায়গায়  উনার  পরিচিতি  বিস্তৃত।ওয়াজ  মাহফিলের  মাধ্যমে  ইসলামের  আলোচনা  দেশ বিদেশে  করে থাকেন।এ ছাড়াও  বিজয়  টিভি  এর  নিয়মিত  আলোচক এবং ঢাকার  হাবিবিয়া  মসজিদের ...

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসলামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস দেখুন

           নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসলামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস দেখুন                                                                            নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুল মুবারাক                                                                                          হাজরে আসওয়াদ                                                               ...

শবে বরাতের দলিল

দলিল-আদিল্লার ভিত্তিতে শবে বরাত ও শবে বরাতে আমাদের করণীয় লেখক; রেজাউল মোস্তফা তানভীর শিক্ষার্থী;ইসলামী ধর্মতত্ব বিভাগ। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন । ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা সাইয়িদিল আশরাফিল আম্বিইয়া ই ওয়াস সালিহিন । ওয়ালা আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াবারিক ওয়াসাল্লিম । আ রবী বার মাসের মাঝে শাবান মাস অত্যন্ত ফজিলত ও বরকতমন্ডিত মাস । এ মাসের শোভা বা বরকত আরো বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা ‘শবে বরাতে’র মাধ্যমে । হাদিসের ভাষায় ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে আমরা এই রাতকে ‘শবে বরাত’ হিসাবে চিনি । “ শব ” ফার্সি শব্দ , অর্থ ; রাত , রজনী । আর বরাত শব্দটি আরবী । অর্থঃ দায়মুক্তি , নিষ্কৃতি , অব্যাহতি ইত্যাদি । অ তএব ‘শবে বরাতে’র পূর্ন অর্থ হলো , দায়মুক্তির রাত বা নাজাতের রাত । ওলামায়ে কেরাম এ রাত্রির মাহাত্ন আলোচনা করতে গিয়ে একে বিভিন্নভাবে নামকরণ করেছেন । হযরত আবুল খায়র আত - ত্বালকানী ( ৫১২ হিজরী – ৫৯০ হিজরী ) এ রাত্রির এ রকম বাইশটি নাম একত্রিত করেছেন । তন্মধ্যে নিন্মে কতেক নাম উল্ল্যেখ করা হলো ; ...